Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

চীনে তরুণ বেকারত্বের হার বেড়ে ১৭.৯%: কাজের বাজারে তীব্র মন্দায় ধুঁকছেন মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরাও

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন


বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে তরুণদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ ধারণ করছে। দেশটির সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বাইরে রেখে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৯ শতাংশে। এর আগে জুন মাসে এই হার ছিল ১৪.৯ শতাংশ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তরুণ বেকারত্বের হার ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া চীনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং শ্রমবাজারের সংকটজনক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে তুলছে।




চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস)-এর প্রকাশিত এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এশিয়ার বৃহত্তম এই অর্থনীতিতে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক গ্রাজুয়েট ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তবে বর্তমান বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরি মেলানো এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতি বছরের এই সময়টিতে পরিসংখ্যানগতভাবে বেকারত্বের হার বাড়লেও, এবারের উল্লম্ফন অর্থনীতিবিদদের বাড়তি ভাবনায় ফেলেছে।

চলতি সংকটে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—কেবল সাধারণ স্নাতক শেষ করা প্রার্থীরাই নন, বরং মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরাও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। যে পদগুলোর জন্য অতীতে সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হতো, সেগুলোতেও এখন উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে উপযুক্ত চাকরির অভাব, আর অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মূল ধারার অর্থনৈতিক খাতগুলোর গতি হারিয়ে ফেলা এই সংকটের মূল কারণ। বিশেষ করে দেশটির অন্যতম চালিকাশক্তি আবাসন খাতে চলমান দীর্ঘমেয়াদী ধস, আইটি ও এডটেক (ই লার্নিং) খাতের ওপর সরকারি কড়াকড়ি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের কেনাকাটার আগ্রহ কমে যাওয়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। অতীতে যেসব স্টার্টআপ এবং প্রাইভেট টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো বিপুল সংখ্যায় তরুণদের নিয়োগ দিত, তারা এখন খরচ কমাতে ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে।

কাজের বাজারে এই ভয়াবহ মন্দার কারণে চীনের তরুণ সমাজের মানসিক ও সামাজিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত বেতনের সম্মানজনক চাকরি না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে ডেলিভারি বয়, রাইড শেয়ারিং কিংবা পার্ট-টাইম কাজ বেছে নিচ্ছেন। এমনকি অনেক তরুণ 'লাইং ফ্ল্যাট' (অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ত্যাগ করে অলস জীবনযাপন করা) বা 'ফুলটাইম সন্তান' (বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করে থাকা) হওয়ার মতো ট্রেন্ডে ঝুঁকে পড়ছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বেইজিং প্রশাসন পরিস্থিতির গাম্ভীর্য অনুধাবন করে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে নানা উদ্যোগ ও নীতিগত সুবিধার কথা ঘোষণা করলেও, বেসরকারি খাতের চাকা সচল না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদে যদি উচ্চশিক্ষিত তরুণদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানে যুক্ত করা না যায়, তবে তা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধিতেই বাধা সৃষ্টি করবে না, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments