Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

রুপালি পর্দা থেকে করপোরেট boardroom-এ তমা মির্জা: নতুন পরিচয়, নতুন চ্যালেঞ্জ

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
লিউডের গ্ল্যামার জগত থেকে এবার পুরোপুরি ভিন্ন এক ছন্দে পা রাখলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জা। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের পাশাপাশি এবার তাকে দেখা যাবে করপোরেট টেবিল ও ফাইলের কাজের মধ্যে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এই অভিনেত্রী। ব্যাংকটির ‘ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস’ বিভাগে গত তিন মাস ধরে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বিনোদন জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র থেকে করপোরেট এক্সিকিউটিভ পদে তার এই আকস্মিক পদচারণ ভক্ত ও বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
করপোরেট জগতের এই নতুন পথচলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তমা মির্জা জানান, এটি তার জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ব্র্যান্ডিং ও কমিউনিকেশনের মতো একটি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে হঠাৎ করে এই পেশায় যুক্ত হওয়ার পেছনে শুধু ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্য নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার একটি তাগিদও কাজ করেছে। গত তিন মাস ধরে নিজের কাজের জায়গাটি গুছিয়ে নেওয়ার পর অবশেষে খবরটি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

তমা মির্জার এই নতুন পদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সবার মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি অভিনয়কে বিদায় জানাচ্ছেন এই গুণী অভিনেত্রী? এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব দিয়েছেন তিনি নিজেই। তমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অভিনয় তার আবেগ, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের মূল জায়গা। ফলে রূপালী পর্দা বা ওটিটি মাধ্যমকে একবারে বিদায় জানানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। করপোরেট চাকুরির পাশাপাশি তিনি আগের মতোই বেছে বেছে মানসম্মত কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা বা টাইম ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে দুটি পেশাই সমান দক্ষতায় সামলানো সম্ভব।

অনেকের কাছেই তমা মির্জার এই করপোরেট ভুমিকা বিস্ময়কর মনে হলেও, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে তাকালে বিষয়টি খুব স্বাভাবিক বলেই মনে হবে। তমা মির্জা আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শোবিজ অঙ্গনে কাজ করলেও শিক্ষার গুরুত্ব তিনি কখনো ভুলে যাননি। একাডেমিক পড়াশোনার এই দৃঢ় ভিত্তিই তাকে আজ করপোরেট বিশ্বের উচ্চপদে আসীন হতে সহায়তা করেছে। শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার এই চমৎকার মেলবন্ধন তাকে ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের কাজে এক আলাদা মাত্রা যোগ করতে সাহায্য করছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে শাহীন-সুমনের ‘বলবো কথা বাসর ঘরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ ঘটে তমা মির্জার। এরপর নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন। ২০১৫ সালে ‘নদীজন’ চলচ্চিত্রে চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে কিছু সময় বড় পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, ওটিটি (OTT) মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন ছিল রীতিমতো ইতিহাস। রায়হান রাফীর ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ এবং ‘ফ্লোর নম্বর ৭’-এ তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের নতুন করে তাকে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করে।

সর্বশেষ ছোট ও বড় পর্দায় তমা মির্জার উপস্থিতি ছিল ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘সুরঙ্গ’ সিনেমায় আফরান নিশোর বিপরীতে তার ‘ময়না’ চরিত্রটি দেশ ও বিদেশে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য তমা মির্জাকে দেশের শীর্ষ সারির অভিনেত্রী হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। এ ছাড়া ‘ফ্রাইডে’ এবং ‘বুকের মধ্যে আগুন’-এর মতো ওয়েব সিরিজে তার সাবলীল অভিনয় তাকে সমালোচকদের কাছে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরপর এতগুলো সফল কাজ উপহার দেওয়ার পর ব্যাংকিং খাতে তার এই নতুন ইনিংস শুরু সত্যি এক বড় পরিবর্তন।

বর্তমানে বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকাই অভিনয়ের পাশাপাশি বিকল্প ক্যারিয়ার বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী এটি একটি অতি পরিচিত চর্চা। তবে তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংক বা বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে স্থায়ীকরণ বেশ চ্যালেঞ্জিং। তমা মির্জা এই চ্যালেঞ্জটি বেশ আনন্দের সাথেই গ্রহণ করেছেন। ব্যাংকের ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি তৈরি, পাবলিক রিলেশনস জোরদার করা এবং করপোরেট ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, চিত্রনাট্য পছন্দ হলে এবং শুটিংয়ের সময়সূচি ব্যাংকের কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তিনি অবশ্যই নতুন সিনেমায় কাজ করবেন। উইকেন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে শুটিং করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তমা মির্জার এই সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের বহু নারীর জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণা। নিজের মেধা ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একই সাথে দুটি ভিন্ন ও প্রভাবশালী মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই প্রচেষ্টা নিশ্চিতভাবেই প্রশংসার দাবিদার।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments