Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

হামের ভয়াবহ থাবা: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের প্রাণহানি, মোট মৃত্যু বেড়ে ৯৪৩

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাইরাসজনিত ব্যাধি হামের বিস্তার বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এতে করে চলতি প্রাদুর্ভাবে সংক্রামক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ জনে। হঠাৎ করে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।


স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৪৪ জন। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ জনে। উপসর্গজনিত ও নিশ্চিত মৃত্যুর এই যৌথ সংখ্যা সাড়ে নয়শোর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় দেশের প্রান্তিক এলাকার সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলা, হাঁচি দেওয়া বা কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে দেন, যা কাছাকাছি থাকা সুস্থ ব্যক্তিদের সহজেই সংক্রমিত করে। এটি যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এর তীব্রতা ও ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও সেবা না পেলে রোগটি অতি দ্রুত জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

সাধারণত হামের লক্ষণ হিসেবে শরীরে তীব্র জ্বর, সারা দেহে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ ওঠা, চোখ লাল হওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া, অনবরত শুকনো কাশি এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানান, হাম স্বয়ং সরাসরি সব সময় মৃত্যুর কারণ হয় না, বরং হামের কারণে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। এর ফলে আক্রান্ত রোগী নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের মারাত্মক প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস, কানের সংক্রমণ এবং তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিলতায় ভোগে। মূলত এই শারীরিক জটিলতাগুলোর কারণেই রোগীর অকাল মৃত্যু ঘটে।

স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক ঘাটতি এবং লোকলজ্জা বা অসচেতনতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াই এই অকাল প্রাণহানির প্রধান কারণ। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কাভারেজে যে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছিল, তার ফলে এক ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগেই ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, মারা যাওয়া অধিকাংশ রোগীই প্রান্তিক অঞ্চলের এবং তারা বেশ বিপজ্জনক অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো হামের প্রাথমিক উপসর্গকে সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করে অবহেলা করেছে। পরবর্তীতে যখন শ্বাসকষ্ট বা তীব্র নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে, তখন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই অনেক শিশুর জীবনাবসান ঘটেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হাম প্রতিরোধে হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলেই প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যেসব শিশু নিয়মিত টিকার ডোজ সম্পন্ন করেছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় থাকেই না, অথবা আক্রান্ত হলেও তা প্রাণঘাতী রূপ নেয় না। তাই যেসব শিশু টিকাদান থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি।

বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে টিকাদান ত্বরান্বিত করা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো শিশুর দেহে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে অবিলম্বে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে, প্রচুর পরিমাণে তরল খাদ্য ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে এবং জ্বর ও কাশির চিকিৎসায় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে মৃত্যুর এই মিছিল থামানো কঠিন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments