Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

ম্যাকাইয়ের সবুজ ট্র্যাকে ফিল সিমন্সের ভাবনা: কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ ও নতুন কৌশল

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
ম্যাকাইয়ের সবুজ ট্র্যাকে ফিল সিমন্সের ভাবনা: কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ ও নতুন কৌশল

আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়া কিংবা অদৃষ্টের কাছে প্রশ্ন রাখা—সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচ ফিল সিমন্সের এই ভঙ্গিই বলে দিচ্ছিল আসন্ন ম্যাচের কন্ডিশন কতটা বড় এক ধাঁধা তৈরি করেছে। ডারউইনের তুলনামূলক পরিচিত আবহাওয়া ও উইকেটের পাঠ চুকিয়ে দল এখন দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ে। আর এই দুই জায়গার কন্ডিশনের ফারাকটা কেবল ভৌগোলিক নয়, ক্রিকেটের ২২ গজেও এর প্রভাব ব্যাপক হতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে যখন কন্ডিশন এবং পিচের আচরণের বিষয়ে সিমন্সকে প্রশ্ন করা হলো, তখন তিনি হালকা হাসিমুখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আকাশের দিকে তাকালেন। তারপর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইঙ্গিত দিলেন, সামনের চ্যালেঞ্জটা মোটেও সহজ হতে যাচ্ছে না। ডারউইনের তপ্ত রোদ ও কিছুটা মন্থর উইকেটের পর ম্যাকাইয়ের ভেন্যুটি একদম বিপরীতধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে ক্রিকেটারদের।

মাঠের তথ্য ও ভেন্যু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ম্যাকাইয়ের উইকেট বেশ সবুজ, বাউন্সি এবং গতিময়। ডারউইনের ধীরগতির পিচে যেখানে ব্যাটাররা সহজেই বল বানিয়ে শট খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন, সেখানে ম্যাকাইয়ে তাদের মূল পরীক্ষা নেবে নতুন বলের সিমে পরা মুভমেন্ট এবং অপ্রত্যাশিত লাফানো বাউন্স। ফলে পেস বোলারদের জন্য এটি যেমন আনন্দের সুযোগ হতে পারে, তেমনি ব্যাটারদের জন্য এটি ধৈর্য ও টেকনিকের এক মহা পরীক্ষা।

ফিল সিমন্সের মতো অভিজ্ঞ কোচের প্রধান চিন্তার জায়গা হলো ক্রিকেটারদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে নামার এই রূপান্তর যেকোনো দলের জন্যই মানসিকভাবে চাপের। সিমন্স অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, উইকেট দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং কন্ডিশন বুঝে সঠিক শট নির্বাচন এবং টেকনিক্যাল পরিবর্তনই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

ব্যাটিং টেকনিক প্রসঙ্গে এই ক্যারিবীয় ক্রিকেট গুরু ইঙ্গিত দেন যে, নতুন বলে ম্যাকাইয়ের সবুজ ঘাসে শুরুতেই শট খেলতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডারউইনের ফ্রন্টফুটনির্ভর খেলার অভ্যাস ছেড়ে এখানে ব্যাটারদের কিছুটা লেট-প্লে করতে হবে এবং বলের লাইন সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের সুইং বল ছেড়ে দেওয়ার যে চিরাচরিত কৌশল, তা এখানে প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, ফাস্ট বোলারদের জন্য ম্যাকাই একটি আদর্শ মঞ্চ তৈরি করছে। ফিল সিমন্স তার পেস বোলিং অ্যাটাক নিয়ে বেশ আশাবাদী। বাউন্সি ও গতিময় উইকেটে সঠিক লেন্থে বল রাখতে পারলে প্রতিপক্ষকে সহজেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া সম্ভব। তবে অতিরিক্ত বাউন্সের মোহে পড়ে বোলাররা যাতে শর্ট লেন্থের বল বেশি না ফেলে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কোচ। গুড লেন্থ এবং সিমে হিট করানোই হবে উইকেট তোলার মূল পথ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কন্ডিশন মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ যেকোনো সফরকারী দলের জন্যই বড় পরীক্ষা। তবে ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ের এই কন্ডিশনগত পরিবর্তনকে সিমন্স দেখছেন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটের সাথে আরও ভালোভাবে তৈরি করার সুযোগ হিসেবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার ওই আকাশের দিকে তাকানো হয়তো প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকে বোঝার চেষ্টা, তবে কৌশল নির্ধারণের জায়গায় তিনি যে পুরোপুরি বাস্তববাদী, তা তার কথাতেই স্পষ্ট।

ম্যাচের মূল দিনগুলোতে আবহাওয়া এবং টস বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফিল সিমন্সের মতে, যদি টস জয়ের সুযোগ আসে, তবে কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ম্যাকাইয়ের সবুজ উইকেটে শেষ পর্যন্ত কে বাজিমাত করবে, তা নির্ভর করছে ২২ গজের এই গতিময় ও বাউন্সি চ্যালেঞ্জকে কারা কত দ্রুত নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে তার ওপর।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments