নেপালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানী কাঠমান্ডু সহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে প্রধান প্রধান সড়ক যোগাযোগ একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক স্থানে সেতু ধসে পড়ে অভ্যন্তরীণ যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ। এ ছাড়া ভূমিধসের কারণে অসংখ্য ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এই অবস্থায় বহু বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর মতো ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্যোগের কবলে পড়লেও তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপু বিশ্বাসের এই নেপাল সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশাগত কাজ। নতুন এক কাজের শুটিং এবং একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই তিনি ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে উড়াল দিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে সুন্দর আবহাওয়া ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করার পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ করেই আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দময় সফরটি রূপ নেয় এক আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতায়। কাঠমান্ডুর একটি সুরক্ষিত হোটেলে অবস্থান করায় বড় ধরনের প্রত্যক্ষ বিপদের হাত থেকে তিনি রক্ষা পেলেও, বাইরে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত ও শঙ্কিত করে তোলে।
হোটেল বন্দি অবস্থার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অপু বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, এত স্বল্প সময়ে আবহাওয়া এতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা কল্পনাতীত ছিল। টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে পুরো শহর এক অদৃশ্য স্তব্ধতায় ঢেকে যায়। বাইরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা সাময়িক সমস্যা তৈরি হলেও তিনি সার্বক্ষণিকভাবে দেশে থাকা নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। নিজেকে নিরাপদ রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করাই ছিল সে সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে তাঁর অবস্থানরত ভক্তদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গেলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেপালের দুর্যোগের ছবি ও ভিডিও দেখে ঢালিউড পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয় অভিনেত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাঁর দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করে পোস্ট করতে থাকেন। ভক্তদের এই ভালোবাসা ও উৎকণ্ঠার খবর পেয়ে অপু বিশ্বাস নিজের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে জানান যে, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি ভালো আছেন এবং সবাই যেন তাঁর জন্য দোয়া করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেপালের বিমান চলাচল এবং পরিবহন ব্যবস্থার অবস্থা খুবই নাজুক। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে মারাত্মক বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত করা হচ্ছে। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফেরা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে অভিনেত্রীর জন্য। আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে আসা এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পরেই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।
নেপাল সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে জোরকদমে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ভূত এই মানবিক বিপর্যয়ে নেপালের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ ও মানুষের মানবিক কষ্ট কাছ থেকে দেখা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
পরিশেষে, ঢালিউড তারকা অপু বিশ্বাসের নিরাপদ থাকার সংবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তাঁর অনুরাগীরা। দুর্যোগের দিনগুলো কাটিয়ে দ্রুতই তিনি স্বদেশে ফিরে আসবেন এবং পুনরায় নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। একই সঙ্গে নেপালের এই বিপর্যয় কাটুক এবং দ্রুত জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হোক, এটাই এখন বিশ্বজুড়ে নেপালপ্রেমীদের একমাত্র প্রার্থনা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।
0 Comments