Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনিয়োর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: এমবাপ্পের মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিকে মন্ত্রমুগ্ধ 'স্পেশাল ওয়ান'

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
স্প্যানিশ ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু সান্তিয়াগো বার্নাব্যু আবারও এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলো। পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড জোসে মরিনিয়োর রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদের হোম অভিষেকের রাতটি চিরস্মরণীয় করে রাখলেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। লা লিগার হাইভোল্টেজ ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। পুরো গ্যালারি যখন 'স্পেশাল ওয়ান'-এর প্রত্যাবর্তনে উদযাপনে মত্ত, ঠিক তখনই মাঠে গোল উৎসবের নেতৃত্ব দেন এমবাপ্পে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বার্নাব্যুর পরিবেশ ছিল বিদ্যুৎগর্ভ। এক দশক আগে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যাওয়া জোসে মরিনিয়ো যখন সাদা পোশাকে আবারও বার্নাব্যুর ডাগআউটে এসে দাঁড়ান, তখন দর্শকরা তাকে দাঁড়িয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। সেই আবেগঘন আবহাওয়ায় রিয়ালের ফুটবলাররাও প্রথমার্ধ থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকেন। বিশেষ করে রিয়াল সোসিয়েদাদের জমাট রক্ষণভাগকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে এমবাপ্পের একের পর এক গতিময় আক্রমণ প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

ম্যাচের প্রথম থেকেই নিজের ক্ষিপ্রতা ও ড্রিবলিং কৌশলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে অতিষ্ঠ করে তোলেন এমবাপ্পে। প্রথমার্ধেই দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে সোসিয়েদাদের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি আক্রমণ থেকে দলগত সমন্বয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে দ্বিতীয় গোলটি পান। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি স্পট থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করার পাশাপাশি দলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন বিশ্বসেরা এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের নতুন কোচ জোসে মরিনিয়ো এমবাপ্পের এমন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অভিভূত হয়ে পড়েন। মরিনিয়োর মতে, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়কে কোচিং করানো যেকোনো ম্যানেজারের জন্যই এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়। পর্তুগিজ এই ট্যাকটিশিয়ান খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেন, "আজকের মাঠে কিলিয়ানের পারফরম্যান্স স্রেফ অবিশ্বাস্য ছিল। ফুটবলের প্রতি তার নিষ্ঠা, গোলমুখী মানসিকতা এবং দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আমি অনেক বড় তারকাকে কোচিং করিয়েছি, কিন্তু এমবাপ্পের খেলায় এক অদ্ভুত জাদু রয়েছে।"

উল্লেখ্য, জোসে মরিনিয়ো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব সামলেছিলেন। সেই সময়ে তিনি বার্সেলোনাকে টপকে ক্লাবকে রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা শিরোপা এবং কোপা দেল রে উপহার দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তার এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে কৌতূহলী করে তুলেছে। প্রথম ম্যাচেই এমন বড় জয় এবং দলের মূল তারকার দুর্দান্ত ফর্ম নিশ্চিতভাবেই মরিনিয়োর নতুন প্রকল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

খেলার ট্যাকটিক্যাল দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মরিনিয়োর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের খেলায় এক ধরনের গতিশীলতা ও প্রতি-আক্রমণ নির্ভরতার চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটেছে। তিনি এমবাপ্পেকে আক্রমণভাগে কিছুটা স্বাধীন ভূমিকা দিয়েছেন, যা ফরাসি তারকাকে নিজের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সোসিয়েদাদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দলগত এই পারফরম্যান্স আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য রিয়ালকে মানসিকভাবে অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের এই হ্যাটট্রিক লা লিগার গোল্ডেন বুট ও শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মরিনিয়োর কঠোর শৃঙ্খলা এবং ট্যাকটিক্যাল দূরদর্শিতা যদি এমবাপ্পের এই ফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে চলতি মৌসুমে ট্রফি জয়ের দৌড়ে লস ব্লাঙ্কোসদের থামানো যেকোনো দলের জন্যই বেশ কঠিন হবে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সমর্থকরাও এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর, যেখানে ট্রফির ক্ষুধা আর তারকাদের দাপট একসূত্রে গাঁথা।

সব মিলিয়ে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তনের রাতটি স্রেফ তিনটি পয়েন্ট অর্জনের ম্যাচ ছিল না; এটি ছিল ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড এবং মাঠের জাদুকরের এক অনবদ্য মেলবন্ধনের নতুন ইতিহাস তৈরির সূচনা। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে এই জয় কেবল এক ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং এটি স্প্যানিশ ও ইউরোপীয় ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন করে হুঙ্কার দেওয়ার এক শক্ত বার্তা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments