ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশটির দুই জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পালমেইরাস ও সান্তোস। দুই দলের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বুধবার (২৬ আগস্ট)।
পালমেইরাসের ঘরের মাঠ নুব্যাঙ্ক পারকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুরু হবে ব্রাসিলিয়া সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে। দুই লেগের এই লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচে নিজেদের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চাইবে পালমেইরাস। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ভালো ফল নিয়ে দ্বিতীয় লেগের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া থাকবে সান্তোস।
দুই দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দুই ক্লাবের তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
দুর্দান্ত ছন্দে পালমেইরাস
চলতি কোপা দো ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পালমেইরাস। টুর্নামেন্টের পঞ্চম রাউন্ডে জাকুইপেন্সের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেয় দলটি।
দুই দলের প্রথম লেগে পালমেইরাস ৩-০ গোলের জয় তুলে নেয়। দ্বিতীয় লেগেও প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় তারা। ফলে দুই ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেয় ব্রাজিলের অন্যতম সফল এই ক্লাব।
এরপর রাউন্ড অব সিক্সটিনে পালমেইরাসের প্রতিপক্ষ ছিল ফোর্তালেজা। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠ নুব্যাঙ্ক পারকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় পালমেইরাস।
দ্বিতীয় লেগে অবশ্য কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় দলটিকে। ম্যাচটিতে ৩-২ গোলে হেরে গেলেও প্রথম লেগের বড় জয়ের কারণে সামগ্রিক ফলাফলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে পালমেইরাস।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তাদের আক্রমণভাগের পাশাপাশি গোল করার দক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগ অনুষ্ঠিত হওয়ায় সান্তোসের বিপক্ষেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে পালমেইরাস।
কঠিন পথ পেরিয়ে সান্তোসের কোয়ার্টার ফাইনাল
অন্যদিকে সান্তোসের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ ছিল তুলনামূলকভাবে কঠিন। পঞ্চম রাউন্ডে করিতিবার মুখোমুখি হয় দলটি।
প্রথম লেগে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ফলে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি সান্তোসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে সান্তোস।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে সান্তোসের প্রতিপক্ষ ছিল রেমো। প্রথম লেগেও গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন লড়াইয়ের মাধ্যমে জয় তুলে নেয় সান্তোস। সেই জয়ের সুবাদে কোপা দো ব্রাজিলের শেষ আটে জায়গা করে নেয় দলটি।
এখন তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী পালমেইরাসের বিপক্ষে দুই লেগের লড়াইয়ে ভালো ফল করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়াই সান্তোসের প্রধান লক্ষ্য।
নেইমারের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ম্যাচটির আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সান্তোসের তারকা ফুটবলার নেইমারের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুব্যাঙ্ক পারকের সিনথেটিক টার্ফের কারণে তাকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।
নেইমার মাঠে না থাকলে সান্তোসের আক্রমণভাগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কারণ অভিজ্ঞ এই তারকা খেলোয়াড় শুধু গোল করার ক্ষেত্রেই নয়, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার জন্যও পরিচিত।
তবে ম্যাচের চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণার আগে নেইমার খেলবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সান্তোস সমর্থকদের চোখ এখন দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ম্যাচের আগের সর্বশেষ আপডেটের দিকে।
প্রথম লেগেই এগিয়ে যেতে চায় দুই দল
কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগের লড়াই হওয়ায় প্রথম ম্যাচের ফলাফল দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পালমেইরাস নিজেদের মাঠে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয় লেগের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে চাইবে।
অন্যদিকে সান্তোসের লক্ষ্য থাকবে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে অন্তত ইতিবাচক ফল নিয়ে ফেরা। ড্র কিংবা অল্প ব্যবধানে পরাজয়ও দ্বিতীয় লেগের আগে দলটিকে লড়াইয়ে রাখতে পারে।
দুই ব্রাজিলিয়ান জায়ান্টের এই ম্যাচে সমর্থকদের প্রত্যাশা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখার। কোপা দো ব্রাজিলের সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে প্রথম লেগে কে এগিয়ে থাকবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পালমেইরাস কি নিজেদের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সান্তোসকে হারিয়ে এগিয়ে যাবে, নাকি নেইমারকে ছাড়াই সান্তোস চমক দেখাতে পারবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
কোপা দো ব্রাজিলের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে ঘিরে তাই এখন ব্রাজিলসহ বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

0 Comments