Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সাভারে শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতির বিনম্র শ্রদ্ধা: হেয়ার রোড থেকে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
জাতীয় রাজনীতির এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক দপ্তর বঙ্গভবনে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার পূর্বে তাঁর দাপ্তরিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। বর্তমানে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে অবস্থানরত নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম সকালে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন। বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকায় আপাতত হেয়ার রোড থেকেই রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাঁকে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানানো হয়। পরে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পুনরায় হেয়ার রোডের বাসভবনে ফিরে আসে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো আমাদের রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে উঠবেন—তা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির আবাসন ও বঙ্গভবনের প্রশাসনিক ব্লকের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বঙ্গভবনের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে খুব শিগগিরই স্থানান্তরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, হেয়ার রোডের অস্থায়ী বাসভবনে থাকলেও রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্বাক্ষর, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় এবং সরকারের নীতি নির্ধারণী বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গভবনে পূর্ণাঙ্গভাবে হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত এই বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রের প্রথম নাগরিক তাঁর সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন।

সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন রাষ্ট্রপতির হাত ধরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর এই রূপান্তরকালীন সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান সংবিধান সমুন্নত রেখে দেশ পরিচালনা ও গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। সাভারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দেশবাসী এখন অপেক্ষা করছে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক প্রবেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তটির জন্য, যা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments