সংশ্লিষ্ট আবেদনটি দায়ের করার পর এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি জানান, হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই চেম্বার আদালতের বিচারপতির উপস্থিতিতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। এই আবেদনের মাধ্যমে আইনি লড়াইকে সর্বোচ্চ আদালতে নিয়ে যাওয়া হলো।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা সরাসরি খারিজ করে দেন। হাইকোর্টের সেই খারিজ আদেশের পরই সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি এবং তিনি জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধানে রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা, নির্বাচন পদ্ধতি এবং সময়সীমা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করতেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল ঘোষণা করে থাকে। তবে উক্ত ঘোষিত তফসিল সংবিধানের নীতিমালার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের উদ্দেশ্যেই এই নতুন আবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন যখন তাদের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে চেম্বার আদালতে এই আবেদনের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চেম্বার আদালত যদি এই আবেদনের ওপর কোনো ধরণের রুল বা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসতে পারে। আর যদি আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়, তবে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
আইন অঙ্গনের পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রপ্রধান পদ শূন্য না রাখার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সুপ্রিম কোর্ট অতীতের বিভিন্ন রায়ে এ ধরনের সাংবিধানিক পদের সচলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে চেম্বার আদালত সর্বিক আইনি দিক ও সাংবিধানিক বিধান পর্যালোচনা করেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের শুনানির ওপর নির্ভর করছে। আগামী দু-এক কার্যদিবসের মধ্যেই এই আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গন, যা নির্ধারণ করবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভবিষ্যত গতিপথ।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

0 Comments