নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, জাতীয় সংসদ কক্ষেই স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী পোলিং বুথ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নির্বাচনের 'রিটার্নিং অফিসার' হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশন সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে। ব্যালট বাক্স স্থাপন, গোপনীয় ভোটিং বুথ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার চূড়ান্ত করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট কেন্দ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের (এমপি) প্রত্যক্ষ ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে উপস্থিত সকল যোগ্য সংসদ সদস্যই এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সাধারণত একক হস্তান্তরযোগ্য গোপন ব্যালট প্রক্রিয়ায় এই ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটদান শেষে আজই গণনা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে কমিশন কর্তৃপক্ষের।
বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ সদস্য প্রার্থী মনোনীত করতে পারে। যদি নির্বাচনে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবেই কেবল সার্বিক ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু যদি কোনো একক প্রার্থী চূড়ান্তভাবে টিকে থাকেন বা প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকে, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেকোনো গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য ব্যালট পেপার ও সংসদ কক্ষের ভেতরে আনুষঙ্গিক ভোটের সার্বিক আয়োজন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়।
রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির মেয়াদ থাকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছর। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের নব্বই থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। রাষ্ট্রপ্রধান দেশের নির্বাহী বিভাগের শীর্ষে অবস্থান না করলেও তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং একাধিক সাংবিধানিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য আইনগত ভূমিকা রয়েছে।
আজকের এই ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে সকাল থেকেই উৎসবমুখর কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সংসদ সদস্যরা দুপুর দুটোর আগেই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করবেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তাঁর টিমের তদারকিতে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে এই ভোটগ্রহণ। ভোটদান শেষে জাতীয় সংসদের অভ্যন্তরেই চলবে ভোট গণনা এবং নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হতে পারে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের।
সার্বিকভাবে, গোটা দেশের মানুষের চোখ এখন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার দিকে। কে হতে যাচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন কাণ্ডারী এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কে বসবেন বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী আসনে—তার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আরএটিভি নিউজের পাতায় থাকবে এই সম্পর্কিত প্রতি মুহূর্তের সর্বশেষ আপডেট।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

0 Comments