Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

“বাংলাদেশ আমাদের গলার ওপর পা দিয়ে রেখেছিল”: টাইগারদের প্রশংসায় অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক লড়াই এখন আর কারও অজানা নয়। সম্প্রতি সফররত বা প্রতিপক্ষ দলের ওপর টাইগারদের নিরবচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টির কৌশলকে খোলাখুলি স্বীকৃতি দিলেন অস্ট্রেলিয়ার উদীয়মান তারকা অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকানোর পর ম্যাকাইয়ে পরবর্তী ম্যাচের অনুশীলনে নামার আগে গ্রিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের এই লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ম্যাচ চলাকালীন বাংলাদেশ তাদের কোনো প্রকার শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেয়নি এবং অত্যন্ত শক্তভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে বজায় রেখেছিল।


সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অজি অলরাউন্ডার মাঠের লড়াইয়ের সেই কঠিন বাস্তব রূপটি তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ওপর এক মুহূর্তের জন্যও চাপ কমায়নি। ম্যাচ চলাকালীন তারা এমনভাবে খেলেছে যেন পুরোটা সময় আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গিয়েছিল।” অস্ট্রেলীয় এই ক্রিকেটারের এমন রূপক মন্তব্য মূলত টাইগারদের ধারাবাহিক বোলিং আক্রমণ, আঁটসাঁট ফিল্ডিং এবং প্রতিপক্ষকে খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়ার সুপরিকল্পিত কৌশলকেই নির্দেশ করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মুখে বাংলাদেশ যে আর পিছু হটে না, বরং উল্টো আক্রমণ চালিয়ে যায়—গ্রিনের কথায় সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অবশ্য টাইগারদের এই শ্বাসরুদ্ধকর চাপের মধ্যেও ক্যামেরন গ্রিন নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেন এই দীর্ঘদেহী অলরাউন্ডার। প্রতিকূল কন্ডিশন ও বাংলাদেশের স্পিন ও পেসের মিশ্র আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর ইনিংসটি ছিল অজিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের ঝুলিতে সেঞ্চুরি জমা হলেও, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের ফেলে দেওয়া প্রভাবকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখতে রাজি নন তিনি।

আগামী ম্যাচের ভেন্যু ম্যাকাই নিয়ে অবশ্য বেশ ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করেছেন গ্রিন। গত বছর এই একই মাঠে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ফরম্যাটে এক অনবদ্য শতক হাঁকানোর সুন্দর স্মৃতি রয়েছে তাঁর। ম্যাকাইয়ের পিচ ও মাঠের কন্ডিশন গ্রিনের বেশ চেনা এবং সেখানে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে অতীতের সেই সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন ম্যাচে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার মানসিকতা নিয়েই তিনি মাঠে নামতে চান বলে জানান।

আধুনিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই আগ্রাসী মানসিকতার পরিবর্তনকে বিশ্ব ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞরা বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। অতীতে দেখা যেত কোনো একটি সেশনে বা ম্যাচে ভালো করার পর বাংলাদেশ কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব দেখাত, কিন্তু বর্তমান টাইগার দল প্রতিপক্ষকে টানা চাপে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। পেস বোলিং বিভাগের বিষাক্ত গতি এবং স্পিনারদের নিখুঁত লাইনের কারণে যেকোনো উইকেটে অজিদের মতো শক্তিশালী দলের ব্যাটারদেরও প্রতিটি রানের জন্য চরম সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ক্যামেরন গ্রিনের মতো একজন প্রথম সারির অজি ক্রিকেটারের মুখ থেকে আসা এই বক্তব্য কেবল সাধারণ প্রশংসাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তরের এক বিরাট সনদ।

ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, ডারউইন বা ম্যাকাইয়ের মাঠ ও পরিবেশ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের জন্য যতটা চেনা ও স্বস্তিদায়ক, টাইগারদের জন্য তা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। তা সত্ত্বেও সেই ভিন্ন কন্ডিশনে যেভাবে সফরকারী বাংলাদেশ দল স্বাগতিকদের কোণঠাসা করে রেখেছিল, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের ধারাবাহিক উন্নতিরই প্রমাণ দেয়। গ্রিন মনে করেন, শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ধরণের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ম্যাচ জয়ের লড়াইটাই একজন ক্রিকেটারকে মানসিকভাবে আরও পরিপক্ব করে তোলে।

পরিশেষে বলা যায়, ক্যামেরন গ্রিনের এই খোলামেলা বয়ান অজিদের মানসিকতায় টাইগারদের তৈরি করা এক অদৃশ্য ভীতি ও সম্মানেরই প্রতিচ্ছবি। ম্যাকাইয়ের আগামী ম্যাচে অজি অলরাউন্ডার নিজের চেনা মাঠে প্রতিপক্ষকে কীভাবে সামলান এবং বাংলাদেশ দল তাদের এই চেপে ধরার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর থাকবে বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments