Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন: জানালার কাচ ভেঙে অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ৩০ যাত্রী

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন একটি চলন্ত এসি স্লিপার বাসের অন্তত ৩০ জন যাত্রী। চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে। বাসের স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ভেতরে আটকা পড়ে যান আতঙ্কিত যাত্রীরা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়োচিত সাহস ও উদ্ধার তৎপরতায় জানালার কাচ ভেঙে সব যাত্রীকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বিলাসবহুল স্লিপার বাসটি চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করার সময় মহাসড়কের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের ইঞ্জিনের দিক থেকে হঠাৎ বিকট শব্দসহ ধোঁয়া বের হতে দেখেন চালক ও যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পুরো বডিতে বিস্তৃত হয়।

অগ্নিকাণ্ড শুরুর পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বাসের স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) দরজার লক সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা পুরুষ, নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। দূরপাল্লার এসি স্লিপার বাসের জানালাগুলো শক্ত কাচ দিয়ে পুরোপুরি আবদ্ধ থাকায় ভেতর থেকে যাত্রীদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। বাসের ভেতর থেকে ভেসে আসা আর্তচিৎকার শুনে মহাসড়কের পাশে থাকা স্থানীয় লোকজন, পথচারী এবং দোকানদাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ইট, পাথর, কাঠের গুঁড়ি ও লোহার রড নিয়ে বাসের শক্ত জানালার কাচ ভাঙার চেষ্টা চালান। একের পর এক জানালার কাচ ভেঙে ফেলার পর বিষাক্ত ধোঁয়া বের হওয়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় জানালার পথ দিয়েই পরম করুণাময়ের কৃপায় একে একে ৩০ জন যাত্রীকে অক্ষত ও আংশিক আহত অবস্থায় বাইরে বের করে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আর মাত্র কয়েক মিনিট দেরি হলে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে এক মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটত।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছের স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের নিরলস প্রচেষ্টায় তারা বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে পুরো স্লিপার বাসটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ দুর্ঘটনায় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া এবং কাচের আঘাতে সামান্য আহত কয়েকজন যাত্রীকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বা ইলেকট্রিক সার্কিটে মারাত্মক ত্রুটির (শর্ট সার্কিট) কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ইদানীং যুক্ত হওয়া বিলাসবহুল স্লিপার বাসগুলোতে আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা হলেও জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বেশিরভাগ বাসে জরুরি মুহূর্তে কাচ ভাঙার জন্য নির্ধারিত ছোট হাতুড়ি (ইমার্জেন্সি হ্যামার), জরুরি নিষ্ক্রমণ পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) এবং সচল অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব দেখা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মহাসড়কগুলোতে চলন্ত এসি ও স্লিপার বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীদের জীবন রক্ষায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, নিয়মিত টেকনিক্যাল চেকআপ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি দূরপাল্লার গাড়িতে নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দিয়েছেন নিরাপদ সড়ক বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর তদারকিই পারে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক দুর্ঘটনা রোধ করতে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments