Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

এআই প্রযুক্তি দিয়ে মানহানি ও গুজব ছড়ালে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কড়া পদক্ষেপ

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগ। সম্প্রতি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, ডিপফেক ভিডিও কিংবা বিকৃত অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের বিধান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। ডিজিটাল বিশ্বের নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত আইনি কাঠামোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে সাইবার জগতে অপরাধের ধরণও ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি, কৃত্রিমভাবে তৈরি কণ্ঠস্বর এবং এআই দিয়ে তৈরি নিখুঁত বিভ্রান্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এসব ভুয়া তথ্য শুধু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তই করছে না, বরং বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অপপ্রচারের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয় করার এই অপপ্রবণতা রুখতেই এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিধান জোরদার করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার আওতায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এআই বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসত্য তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে কারও সামাজিক বা আর্থিক মানহানি করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। অপরাধের মাত্রা, ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের প্রভাব এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে আদালত দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো আরও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য হবে।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, কেবল সাধারণ এডিট করা ছবি বা লিখিত বার্তার মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো হতো। কিন্তু বর্তমানে এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এমন সব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ তৈরি করা হচ্ছে, যা খালি চোখে বা সাধারণ বুদ্ধিতে ভুয়া বলে চেনা প্রায় অসম্ভব। অপরাধীরা এই সুযোগ নিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পূর্বে প্রচলিত আইনে এই ধরনের জটিল এআই অপরাধের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও আর্থিক ক্ষতির উপযুক্ত জরিমানার অভাব ছিল, যা নতুন পদক্ষেপে সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিউ এবং সাইবার উপার্জনের আশায় অনেকেই নিয়মিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ কোটি টাকার মতো বিশাল অঙ্কের জরিমানার ভয় থাকলে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য বা কনটেন্ট শেয়ার করার আগে ব্যবহারকারীরা সেটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করতে বাধ্য হবেন। এটি অনলাইনে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি স্বনিয়ন্ত্রণ বা দায়িত্ববোধ তৈরি করবে।

তবে আইনের এই কঠোর প্রয়োগ নিয়ে প্রযুক্তিবিদ ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। তাদের মতে, কড়া আইনের অপব্যবহার করে যেন স্বাধীন মতামত প্রকাশ বা গঠনমূলক সমালোচনাকে দমন করা না হয়। কোনটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আর কোনটা সাধারণ ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট (Satire), তা নির্ধারণে বিচার বিভাগ ও তদন্তকারী সংস্থাকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই সাথে এআই অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য উন্নত ফরেনসিক ল্যাব ও আধুনিক ডিটেকশন টুলের ব্যবহার বৃদ্ধি না করলে আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাও জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এআই যেমন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে, তেমনি সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিও তৈরি করেছে। এআই কনটেন্ট ও গুজব ছড়ানোর বিপরীতে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের এই ব্যবস্থা অপপ্রচারকারীদের জন্য একটি শক্ত বার্তা দেবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সতর্কতামূলক আইনি পদক্ষেপের সমন্বয়ে সাইবার জগতকে একটি নিরাপদ ও সুসংহত রূপ দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments