Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

স্টার্কের গতির ঝড়ে দিশেহারা বাংলাদেশ: ১০ উইকেট নিয়ে ইনিংস হারের মুখে ফেললেন টাইগারদের

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণের সামনে আরও একবার নিজেদের অসহায়ত্ব জাহির করল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। অজি পেস আক্রমণের প্রাণভোমরা মিচেল স্টার্কের ক্ষুরধার বোলিং ও বিধ্বংসী স্পেলে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচে নিজের ১০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ইনিংস হারের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিডস্টার।


ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং গতিময় বাউন্সারের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল টাইগার ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রতিপক্ষের রান পাহাড়ের জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাগতিক বোলারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং কৌশলগত বোলিংয়ের কোনো জবাবই ছিল না বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের কাছে।

বিশেষ করে মিচেল স্টার্কের বলের গতি এবং রিভার্স সুইং লাল বলের ক্রিকেটে বিশ্বমানের প্রদর্শনী মেলে ধরেছে। নতুন বলে যেমন তিনি সুইং আদায় করে নিয়েছেন, তেমনি তুলনামূলক পুরোনো বলে রিভার্স সুইং কাজে লাগিয়ে একে একে ধস নামিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভে। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চুরমার হয়ে যায় স্টার্কের দুর্দান্ত স্পেলে। টেল-এন্ডার ব্যাটার তাইজুল ইসলামকে একটি চমৎকার ইন-সুইঙ্গিং ইয়র্কারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে নিজের দশম শিকার নিশ্চিত করেন তিনি।

দলীয় ব্যর্থতার পাশাপাশি ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন আবারও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। উইকেটে টিকে থাকার সর্বনিম্ন মানসিকতা কিংবা টেস্ট সুলভ ধৈর্যের চরম অভাব দেখা গেছে প্রথম সারির ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে। গতির পাশাপাশি অতিরিক্ত বাউন্স সামলাতে না পেরে অধিকাংশ ব্যাটারই স্লিপ ও উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা—কেউই স্টার্কের অগ্নিঝরা বোলিংয়ের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে মেধা ও মানসিকতার যে সমন্বয় প্রয়োজন, বাংলাদেশ দল তা প্রদর্শনে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা পেস আক্রমণ সামলানোর জন্য যে টেকনিক্যাল প্রস্তুতি দরকার ছিল, তার বড় অভাব ফুটে উঠেছে পুরো ম্যাচে। স্টার্কের তোপের মুখে পড়া ব্যাটারদের ব্যাকফুট ডিফেন্স এবং অফ-স্টাম্পের বাইরের বল ছাড়ার প্রবণতা ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে।

টেস্ট ক্যারিয়ারে মিচেল স্টার্কের এটি আরও একটি স্মরণীয় ১০ উইকেটের সাফল্য হিসেবে নথিভুক্ত হলো। তার এই আগুন ঝরানো পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের একবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে, হাতে সামান্য কয়েকটি উইকেট এবং বিশাল রানের পাহাড় সামনে নিয়ে বাংলাদেশ এখন নিশ্চিত ইনিংস হারের মুখে দাঁড়িয়ে। ম্যাচটি বাঁচাতে হলে কোনো অলৌকিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতির বিবেচনায় একপ্রকার অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের টেস্ট সংস্করণের দুর্বল কঙ্কালটিকেই ফের উন্মোচিত করল। দীর্ঘকাল ধরে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলার পরও কন্ডিশন ও মানসম্মত পেস বোলিংয়ের সামনে এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া টাইগার ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকর নয়। এখন দেখার বিষয়, ইনিংস হারের লজ্জা এড়িয়ে বাংলাদেশ কতটুকু লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments