Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

ফেনীতে ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপা: স্কুলছাত্রী নিহত, আহত ৭

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

ফেনীর দাগনভূঞায় স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা ঘাতক বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আনন্দমুখর পরিবেশে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুল শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল শিক্ষার্থীরা। এ সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ও বেপরোয়া গতিতে আসা যাত্রীবাহী বাস তাদের সজোরে চাপা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে বাসচাপায় তার পাশে থাকা আরও সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় উৎসুক জনতা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং বেপরোয়া বাস চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে চালানো ঘাতক বাসটিকে জব্দ এবং চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একজন নিষ্পাপ শিশুর এমন অকাল বিদায়ে নিহত ছাত্রীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সহপাঠীকে হারিয়ে সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার প্রতি কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকরা।

তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments