বাংলাদেশের জলমগ্ন প্রান্তিক হাওর অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়—শামসুল আলমের এই জীবনগাথা কেবল এক ব্যক্তির সফলতা নয়, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই মেধাবী তরুণ সম্প্রতি একই শিক্ষাবর্ষে তিনটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি লাভ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত সম্মানজনক কমনওয়েলথ স্কলারশিপ।
হাওরাঞ্চলের কাদা-জল ও বৈরী পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা শামসুল আলমের উচ্চশিক্ষার পথচলা শুরু হয় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে। সেখান থেকে পুরকৌশল বিভাগে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করেই কর্মজীবনের শুরুতে যুক্ত হন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই বৃহৎ প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত দক্ষতার শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়।
কর্মজীবনের প্রারম্ভিক সাফল্যের পরপরই বৈদেশিস অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান শামসুল। এই বৈশ্বিক এক্সপোজার তাঁর চিন্তাভাবনার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং মর্যাদাপূর্ণ বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারে সরাসরি গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দেশসেবার পাশাপাশি সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন।
তবে পেশাগত সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থানের পরও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুপ্ত বাসনা তিনি হৃদয়ে লালন করে গেছেন। তাঁর সেই অদম্য প্রচেষ্টার ফল মেলে যখন তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তিনটি শীর্ষস্থানীয় স্কলারশিপের জন্য একই বছরে নির্বাচিত হন। বিশ্বখ্যাত একাধিক সুযোগের মধ্য থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ স্কলারশিপকে গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে নগর পুনর্গঠন ও উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষণা করছেন।
হাওরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রকৌশলী, বিসিএস ক্যাডার এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ স্কলার হওয়ার এই অবিশ্বাস্য পথচলা প্রমাণ করে যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো সামাজিক বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাই বাধা হতে পারে না। শামসুল আলমের এই অদম্য গল্প বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। প্রবাসে উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দিয়ে জন্মভূমির টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

0 Comments