আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি পুরোনো প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে কার্যকর আপিল স্থগিতাদেশ না থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা (ডব্লিউএ) জারি করেন। সেই সাজা পরোয়ানার আলোকেই রোববার তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী জানান, বিদিশা সিদ্দিকের পক্ষে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করার চেষ্টা করলেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জামিন পাওয়ার আইনি সুযোগ সীমিত থাকায় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সাথে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সুবিধা প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদিশা সিদ্দিক দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত মুখ। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের সাথে বিবাহের পর তিনি রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাদের বিচ্ছেদ এবং এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি জাতীয় পার্টির একাংশের পুনর্গঠন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসা-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় তার নাম জড়িয়ে পড়ে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের এই আদেশের পর এখন বিদিশা সিদ্দিকের আইনি দলের সামনে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) আপিল দায়ের করা এবং সেখান থেকে জামিনের আবেদন করার পথ খোলা রয়েছে। উচ্চ আদালত যদি সাজার রায় স্থগিত করেন, তবেই কেবল তিনি কারামুক্তির সুযোগ পেতে পারেন। অন্যথায় তাকে নির্ধারিত সাজার পুরো মেয়াদটাই কারাভোগ করতে হবে।
বিদিশা সিদ্দিকের কারাগারে যাওয়ার এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে কড়া নিরাপত্তায় গাজীপুর বা কাসিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মামলাটির পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিদিশার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা খুব শিগগিরই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।
0 Comments