Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় 'ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল' গঠনের আহ্বান জামায়াতের, দিল ৪ দফা প্রস্তাব

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন


দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি ও লোডশেডিং সংকট নিরসনে চার দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংকট কাটানো এবং সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি সর্বাত্মক 'ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল' গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছে দলটি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতের অপচয়, দুর্নীতি এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবকে বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব জরুরি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবনার প্রথম ও প্রধান দাবি হিসেবে জামায়াত উল্লেখ করেছে, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন 'ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল' অবিলম্বে গঠন করতে হবে। এই সেল দেশের সার্বিক জ্বালানি মজুদ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করবে। একই সাথে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণী দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এই কমিটি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে বিপুল অর্থ অপচয় এবং তথাকথিত সিস্টেম লসের নামে চলমান দুর্নীতি বন্ধের কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব ছিল। অস্বচ্ছ চুক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যায়ভাবে লোপাট হয়েছে। এসব অপচয়নীতি ও অনিয়মের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় দলটি।

তৃতীয় প্রস্তাবে নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে থমকে থাকা তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম অবিলম্বে পুরোদমে শুরু করা এবং দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন সক্ষমতা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটির মতে, শুধুমাত্র আমদানিনির্ভরতা অব্যাহত রাখলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়। তাই নিজস্ব সম্পদ উত্তোলনের দিকে নজর দিলে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চতুর্থ ও শেষ প্রস্তাবে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসারের ওপর তাগিদ দিয়েছে জামায়াত। দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, জ্বালানি সংকট কেবল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন থমকে যাচ্ছে, কৃষিকাজে সেচ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে সরকারের উচিত সময়ক্ষেপণ না করে এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments