দুই দশক আগে লোকসানের বোঝা বহন করতে না পেরে চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী আদমজী জুট মিল। যে কারখানার সাইরেনের শব্দে একসময় নারায়ণগঞ্জের হাজারো মানুষের দিন শুরু হতো, তা থমকে যাওয়ায় থমকে গিয়েছিল স্থানীয় অর্থনীতিও। তবে সেই অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে পেছনে ফেলে এক সময়ের ধ্বংসাবশেষের ওপর নতুন করে জেগে উঠেছে আদমজী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)। জুট মিলের স্থান দখল করা এই ইপিজেড এখন বার্ষিক ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছে।
আদমজী ইপিজেডে আজ উৎপাদিত হচ্ছে বিশ্বমানের বৈচিত্র্যময় সব পণ্য। পশ্চিমা বিশ্বের রাজকীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আভিজাত্যপূর্ণ গাউন থেকে শুরু করে দুর্গম খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ সুরক্ষামূলক বুট জুতো—সবই তৈরি হচ্ছে এই শিল্পাঞ্চলে। আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এসব পণ্য কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে রপ্তানি করা হচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। পাটকল বন্ধের যে ক্ষত ছিল, তা আজ আধুনিক শিল্পায়নের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-র আওতায় পরিচালিত এই ইপিজেড শুধু বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের কদরই বাড়ায়নি, বরং তৈরি করেছে বিশাল কর্মসংস্থান। বর্তমানে এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন নারীরা, যা তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং স্থানীয় সামাজিক অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিরাট ভূমিকা রাখছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, লোকসানে পড়া ঐতিহ্যবাহী শিল্পক্ষেত্রকে কীভাবে আধুনিক ও লাভজনক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা যায়, তার একটি বিশ্বমানের উদাহরণ আদমজী ইপিজেড। বন্ধ পাটকলের জায়গায় গড়ে ওঠা এই নতুন শিল্পনগরী প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মীর পদচারণায় মুখরিত। প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে আদমজী ইপিজেড, যা ভবিষ্যতের শিল্পায়নের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

0 Comments