Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় জোড়া জাহাজের সংঘর্ষ, একটির ইঞ্জিনকক্ষে মারাত্মক ফাটল

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙ্গর সংলগ্ন জলসীমায় দুটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে এক আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় একটি জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জাহাজটিতে পানি প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। ঘটনার পরপরই বন্দর জলসীমায় নিয়োজিত অন্যান্য নৌযানের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।



বন্দর ও নৌ-পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম বন্দর সীমানায় নির্ধারিত নোঙ্গরস্থলে অবস্থানকালে গতিপথের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অপর একটি ভেসেলের ওপর সজোরে আছড়ে পড়ে। ধাক্কার তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নিচের অংশে থাকা ইঞ্জিনকক্ষের স্টিল স্ট্রাকচার ফেটে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনকক্ষে পানি ঢুকতে শুরু করলে জাহাজের ক্যাপ্টেন তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং কোস্ট গার্ডের জরুরি সহায়তা চান।

জরুরি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক শক্তিশালী টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাম্পিং সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উদ্ধারকারীদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি সলিলসমাধি হওয়া থেকে রক্ষা পায়। স্বস্তির বিষয় হলো, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের কোনো ক্রু বা নাবিক হতাহত হননি এবং সবাই নিরাপদ রয়েছেন।

এদিকে, ইঞ্জিনকক্ষে ফাটল ধরায় সমুদ্রে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে সামুদ্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার একটি বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ-সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, ফাটলের স্থানটি দ্রুত সাময়িকভাবে সিল করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো তেল নিঃসরণের আলামত পাওয়া যায়নি। সমুদ্রের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বন্দর ও কোস্ট গার্ডের একটি যৌথ তদারকি দল ঘটনাস্থল নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান চ্যানেল ও মূল নৌপথ সচল রাখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান দুটিকে সাধারণ চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিরাপদ নোঙ্গরস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা তৈরি না হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। জাহাজের কারিগরি ত্রুটি নাকি নেভিগেশন পরিচালনায় অবহেলা ছিল—তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে বন্দরের চ্যানেলজুড়ে জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments