Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সম্পদ বিক্রি করলেই আয় নয়: মূলধনি লাভ ও কর বিধিমালার বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
কোনো জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার কিংবা অন্য কোনো স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করার পর ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা হলেই কি পুরো টাকার ওপর কর দিতে হবে? দেশের সাধারণ করদাতাদের একটি বড় অংশের মনে এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সম্পদ বিক্রির পুরো অর্থই হয়তো তাদের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী বিশাল অংকের ট্যাক্স দিতে হবে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিদ্যমান আয়কর আইন ও নীতির মূল বিষয় হলো—সম্পদ বিক্রির থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থ করযোগ্য আয় নয়। মূলধনি সম্পদ হস্তান্তরের পর যদি সেখান থেকে নিট মুনাফা বা লাভ অর্জিত হয়, কেবল সেই লাভের অংশের ওপরই নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করতে হবে।



অর্থনৈতিক ও আইনি পরিভাষায় এই লাভকে বলা হয় ‘ক্যাপিটাল গেইন’ বা ‘মূলধনি মুনাফা’। সহজ কথায়, কোনো সম্পত্তি যে মূল্যে ক্রয় করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হলে যে অতিরিক্ত অর্থ উদয় হয়, সেটাই হলো মূলধনি লাভ। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যদি ১০ বছর আগে একটি জমি ২০ লাখ টাকায় ক্রয় করে থাকেন এবং সম্প্রতি সেটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন, তবে তার মোট বিক্রয় মূল্য ৫০ লাখ টাকা হলেও পুরো টাকার ওপর কর ধার্য হবে না। এখানে অর্জিত অতিরিক্ত ৩০ লাখ টাকাই হলো তার মূলধনি লাভ। আয়কর আইন অনুযায়ী এই ৩০ লাখ টাকার ওপরই প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে কর হিসাব করতে হবে।

করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মূলধনি মুনাফা গণনার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি খরচ বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সম্পত্তি অর্জনের মূল ক্র মূল্য ছাড়াও এটি কেনা এবং বিক্রির সময় পরিশোধিত রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, আইনি বা ওকালতি খরচ এবং উক্ত সম্পদের মানোন্নয়ন বা সংস্কারের জন্য করা সুনির্দিষ্ট ব্যয় মূলধনি লাভ থেকে বাদ দেওয়া যায়। ফলে করযোগ্য মূলধনি মুনাফার পরিমাণ বাস্তবিক অর্থেই অনেকটাই কমে আসে এবং করদাতাকে অযৌক্তিক করের বোঝা বইতে হয় না।

আমাদের দেশে পৈতৃক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ বিক্রি নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকেই বুঝতে পারেন না উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির লাভ কীভাবে হিসাব করা হবে। আয়কর বিধান অনুযায়ী, উত্তরাধিকার বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অর্জন মূল্য শূন্য ধরা হয় না। বরং মূল দাতা বা যার কাছ থেকে সম্পত্তিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে, তিনি যে দামে সম্পদটি কিনেছিলেন বা অর্জন করেছিলেন, সেটিকেই প্রারম্ভিক মূল্য হিসেবে হিসাব করা হয়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে বিক্রি করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করের সম্মুখীন হতে হয় না।

অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তি যেমন—জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উৎসে আয়কর (TDS) কেটে নেওয়া হয়। বর্তমানে এনবিআরের অনেক বিধিতে এই উৎসে কেটে নেওয়া করকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তবে সম্পদ বিক্রি করে যদি কোনো লাভ না হয়ে উল্টো ক্ষতি বা লোকসান হয়, যাকে বলা হয় ‘ক্যাপিটাল লস’, সে ক্ষেত্রে করদাতাকে কোনো মূলধনি আয়কর পরিশোধ করতে হয় না। বরঞ্চ নিয়ম অনুযায়ী এই আর্থিক ক্ষতি ভবিষ্যতে অর্জিত অন্য কোনো মূলধনি লাভের সাথে সমন্বয়ের সুযোগও থাকে।

রাজস্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ কেনাবেচার ক্ষেত্রে সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করা অত্যন্ত জরুরি। নগদে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করলে ভবিষ্যতে আয়কর রিটার্নে তা উপস্থাপন করতে জটিলতার সৃষ্টি হয়। সম্পত্তি ক্রয়ের দলিল, বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে-অর্ডার এবং সরকারি ফিস জমার রসিদ নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিক তথ্য আড়াল না করে আয়কর বিবরণীতে ক্যাপিটাল গেইন যথাযথভাবে প্রদর্শন করলে একদিকে যেমন আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে যেকোনো ধরনের পেনাল্টি বা অহেতুক নোটিশের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments