Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপেই রাসুলের (সা.) জন্মোৎসব: স্বজন হারানোর বেদনার মাঝেও গাজাজুড়ে শান্তির আকুল প্রার্থনা

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
চলমান যুদ্ধ, স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ এবং চারপাশের ইট-পাথরের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ—সবকিছুকে পেছনে ফেলে এক অভূতপূর্ব মানসিক শক্তির পরিচয় দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসী। চারপাশের ধ্বংসাবশেষের মাঝেই তারা উদযাপন করল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাত দিবস 'ঈদে মিলাদুন্নবী'। সব হারানোর বেদনার মাঝেও ইসলামের শেষ নবীর প্রতি ভালোবাসা আর বিশ্বশান্তির প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা।



আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধূলিসাৎ হওয়া মসজিদ ও আবাসিক ভবনগুলোর পাশে অস্থায়ী তাঁবু এবং খোলা আকাশের নিচে সমবেত হয়েছিলেন শত শত ফিলিস্তিনি। বিশেষ করে মধ্য ও দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যেসব স্থান একসময় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর থাকত, সেখানে আজ কেবলই ধ্বংসাবশেষ; তবুও রাসুল (সা.)-এর দেখানো ধৈর্যের পথ অনুসরণ করে এই কঠিন সময়েও নিজেদের ঈমানী চেতনাকে জাগ্রত রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠে ছিল যেমন স্বজন হারানোর বেদনা, তেমনি ছিল আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস। গাজা সিটির এক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আকুল কণ্ঠে জানান, "আমাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি, কিন্তু আমাদের ঈমান ও মহানবীর প্রতি ভালোবাসা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা আজ রাসুল (সা.)-এর দরবারে দোয়া করছি, যেন আল্লাহ আমাদের এই নরকীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেন এবং গাজায় চিরস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনেন।" শিশুদের হাতে কিছুটা মিষ্টি বিতরণ এবং হামদ-নাত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের অবিরাম সামরিক অভিযানে গাজা আজ কার্যত এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, হামলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকটে প্রতিনিয়ত ধুঁকছে লাখ লাখ মানুষ। এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের এই ঘটনা গাজাবাসীর অদম্য সহনশীলতা ও বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে ফুটে উঠেছে।

মুসলিম বিশ্বের জন্য ঈদে মিলাদুন্নবী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন এবং মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। গাজার নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য এই দিনের বার্তাটি ছিল আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তারা মনে করেন, রাসুল (সা.)-এর জীবনী আমাদের শেখায় কীভাবে কঠিনতম পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারণ করতে হয় এবং সত্য ও সুবিচারের পক্ষে অবিচল থাকতে হয়। ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে তাদের এই মোনাজাত বিশ্ববাসীর বিবেককে নতুন করে নাড়া দিচ্ছে।

আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ, আর নিচে নিষ্পাপ শিশুদের কণ্ঠে মহানবীর শানে নাত—এমন বৈপরীত্যের মধ্যেই গাজায় সমাপ্ত হয়েছে মিলাদুন্নবীর বিশেষ আয়োজন। পরিশেষে বিশেষ মোনাজাতে গাজাবাসী আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবশেষে তাদের নীরবতা ভঙ্গ করে এবং গাজায় অবলিম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাদের একটাই চাওয়া—যেন গাজার আকাশে আবার শান্তির পায়রা ওড়ে এবং আগামী বছরের মিলাদুন্নবী তারা নিজেদের পুনর্নির্মিত ভিটেমাটিতে শান্তিতে উদযাপন করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments