Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ট্র্যাজেডি: প্রাণ হারালেন ৭ শ্রমিক, আশঙ্কাজনক একাধিক

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারাত্মকভাবে অসুস্থ ও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।



স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভাটিয়ারীর একটি স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পুরানো একটি জাহাজের ভেতরে কাটিংয়ের কাজ করার সময় হঠাৎ মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। জাহাজের সংবেদনশীল ও আবদ্ধ অংশ বা ট্যাংকে নেমে শ্রমিকরা কাজ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষাক্ত বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দ্রুত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কয়েকজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তাদের সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বাঁচাতে অন্য সহকর্মীরা সেখানে ছুটে গেলে গ্যাসের তীব্রতায় তারাও বিষক্রিয়ার শিকার হন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ও ইয়ার্ডের অন্যান্য শ্রমিকরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সাথে যোগ দেয়। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত অচেতন ও মারাত্মক অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৭ জন শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শ্রমিকদের পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের ফুসফুস ও শ্বাসনালী বিষাক্ত গ্যাসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এদিকে মর্মান্তিক এই খবরের পর চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ভয়াবহ এই প্রাণহানির খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ জানিয়েছে, জাহাজ কাটার পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী সেটি বিষাক্ত মুক্ত করার সনদ (গ্যাস ফ্রি সার্টিফিকেট) নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কাজ করার সময় শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্তে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ইয়ার্ড মালিক বা কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার অভাবের কারণে নিয়মিত বিরতিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়ে আসছে। তদারকির অভাব ও কারখানার মালিকদের খামখেয়ালিপনাকে এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছেন বিশিষ্টজনেরা। আজকের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments