Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

এমআইএসটি স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষিত: বিস্তারিত সময়সূচী ও সম্পূর্ণ আবেদন নির্দেশিকা

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
এমআইএসটি স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষিত: বিস্তারিত সময়সূচী ও সম্পূর্ণ আবেদন নির্দেশিকা

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিটারী ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল ও স্থাপত্যবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য এটি অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি সংবাদ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

এমআইএসটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত তারিখে দুই শিফটে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 'ইউনিট এ' (ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিজ্ঞান অনুষদ) এবং 'ইউনিট বি' (স্থাপত্য) - এই দুটি ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। সকালের শিফটে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের লিখিত পরীক্ষা এবং বিকেলের শিফটে স্থাপত্য অনুষদের ড্রয়িং বা অঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সকল সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করা শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এমআইএসটিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের জন্য কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ে উচ্চমানের ফল থাকতে হবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতে নির্ধারিত মোট গ্রেড পয়েন্ট থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য ও-লেভেল এবং এ-লেভেলে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিষয়ে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় গ্রেড থাকতে হবে। কেবল প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জনকারী প্রার্থীরাই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এমআইএসটির নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। টেলিটক অথবা নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওয়েবসাইটে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে সফল প্রার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। রোল নম্বর, পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম এবং আসন বিন্যাস প্রবেশপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

এমআইএসটি বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম আধুনিক ও যুগোপযোগী কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। এখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই), সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই), অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এই), নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ারিং (নামে), বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই), পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (নুক্লিয়ার), পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) এবং স্থাপত্য বিভাগের মতো আধুনিক সব শাখা রয়েছে। সিভিল ও সামরিক—উভয় খাতের শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে নির্দিষ্ট কোটায় আসন সংরক্ষিত থাকে, যার ফলে এটি এক অনন্য বৈচিত্র্যময় শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা পরিচালিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার কঠোর শৃঙ্খলা, বিশ্বমানের গবেষণাগার, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য বিশেষ পরিচিত। এখানে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। ফলে এখান থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এমআইএসটির ডিগ্রি বিশেষ মূল্যায়ন লাভ করে।

ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টনের ক্ষেত্রে সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। 'ইউনিট এ'-এর জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং ইংরেজি বিষয় থেকে লিখিত টাইপ প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার্থীদের মেধা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে 'ইউনিট বি'-তে স্থাপত্য বিভাগের পরীক্ষার্থীদের মৌলিক ড্রয়িং, অনুপাত জ্ঞান, স্থানিক অনুভূতি (spatial awareness) এবং নান্দনিক বোধ যাচাই করার জন্য বিশেষ অঙ্কন পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় কোনো প্রকার অসদুপায় অবলম্বন বা নেতিবাচক কৌশল কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার জন্য পরীক্ষার হলগুলোতে থাকবে কড়া নজরদারি।

প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যেসব শিক্ষার্থী এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো এখন থেকেই পাঠ্যবইয়ের মূল কনসেপ্ট বা ধারণাগুলো পরিষ্কার করা। পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও রসায়নের সূত্রগুলো মুখস্থ করার পাশাপাশি গাণিতিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের অনুশীলন করা জরুরি। সময় ব্যবস্থাপনা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। পরীক্ষার হলে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিখুঁতভাবে দেওয়ার জন্য নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া এবং বিগত বছরের প্রশ্নাবলী সমাধান করা অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল হতে পারে। ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো অতিরিক্ত তথ্য, নোটিশ কিংবা পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের কেবল এমআইএসটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments