সরকারি বাজেটের অপচয় এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে নীতিগত সমন্বয়হীনতার এক চরম দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত ৬৩৭ কোটি টাকার পূর্ববর্তী ডাটাবেজ বা তালিকা কার্যকর না হতেই, এবার প্রায় একই উদ্দেশ্যে নতুন করে ৬৭৬ কোটি টাকার আরেকটি বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। আগের মেগা বিনিয়োগের সঠিক ফল না পেয়ে পুনরায় সমজাতীয় প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ইতিপূর্বে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে যে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছিল, তা প্রশাসনিক জটিলতা ও দপ্তরগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সদিচ্ছার অভাবে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। সেই তালিকা প্রয়োগ নিশ্চিত না করেই সম্পূর্ণ নতুন একটি জরিপ অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, প্রথম প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো ধরনের সুফল না দিয়েই অপচয়ে পরিণত হতে চলেছে।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক ও নীতি-বিশ্লেষকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, জনস্বার্থ বা রাজস্ব সাশ্রয়ের চেয়ে নতুন প্রকল্প প্রণয়নের প্রবণতাই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে সাড়ে ছয়শত কোটি টাকার বেশি খরচ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ, বিগত প্রকল্পে সংগ্রহ করা প্রাথমিক উপাত্তগুলো এখনো সম্পূর্ণ অব্যাখ্যাত বা অকেজো হয়ে যায়নি। সেগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামান্য হালনাগাদ (update) করে নিলেই বর্তমান চাহিদা পূরণ সম্ভব।
অর্থনীতিবিদ ও পরিসংখ্যানবিদদের পরিষ্কার অভিমত, পূর্বের ৬৩৭ কোটি টাকার তালিকার সাথে অতি সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ থেকে সংগৃহীত তথ্যের একটি কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিস্তৃত তথ্যভাণ্ডার এবং পুরনো ডাটাবেজকে আংশিক পরিমার্জন করলে একদিকে যেমন সাড়ে ছয়শত কোটিরও বেশি টাকা বেঁচে যাবে, অন্যদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।
বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য একটি একক কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকা জরুরি। পৃথক পৃথক সংস্থা কর্তৃক একই ধরণের জরিপ পরিচালনা করা শুধুই জাতীয় সম্পদের অবচয়। তারা মনে করেন, বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় বন্ধ করা না গেলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই অহেতুক নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখে পুরোনো তথ্যকাঠামোর আধুনিকীকরণেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

0 Comments