একটি চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর দু'দিন ধরে হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল এক কিশোরের নিথর দেহ, অথচ পরিবারকে সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিশোরকে অপহরণের ভুয়া নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক অজ্ঞাত চক্র। আরজেডি বা সাধারণ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণ হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায়। স্বজনরা যখন তাকে বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের কাছে একাধিক নাম না জানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, কিশোরকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে অবিলম্বে মুক্তিপণ দিতে হবে। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা পরিবার কোনো কিছু না ভেবেই দুষ্কৃতীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করে। কিন্তু তারা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি যে, তাদের সন্তান আগেই মারা গেছে এবং তার দেহ রয়েছে হাসপাতালের মর্গে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ প্রকৃতপক্ষে দুই দিন আগেই উক্ত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বা নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হলে সাথে সাথে তা কেন্দ্রীয়ভাবে এবং আশেপাশের সমস্ত পুলিশ স্টেশনে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এক্ষেত্রে সেই মৌলিক পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের এই গাফিলতির কারণেই পরিবার নিখোঁজের ডায়েরি করা সত্ত্বেও মৃতদেহের সন্ধান পায়নি এবং প্রতারকদের ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হয়েছে।
মৃত কিশোরের পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বজনরা প্রশ্ন তুলেছেন, "আমাদের সন্তান যখন ইতিমধ্যেই মর্গে পড়ে ছিল, তখন অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা আদায় করল কারা? তারা কতটা প্রভাবশালী বা চতুর যে পুলিশের চোখের সামনেই এমন কাণ্ড ঘটাতে পারল?" স্বজনদের দাবি, পুলিশ যদি সময়মতো সব থানায় বার্তা পাঠাত, তবে অন্তত মুক্তিপণের নামে প্রতারিত হতে হতো না এবং সন্তানের মরদেহ পেতে এতটা দেরি হতো না।
এই নৃশংস ঘটনার পেছনের মূল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যে চক্রটি মৃত কিশোরকে জীবিত দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। একই সাথে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও তথ্য গোপনের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র অনুসারে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
.jpg)
0 Comments