Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সিরাজগঞ্জে ভূতুড়ে বিলের তাণ্ডব: পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গ্রাহকদের প্রবল বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের চরম অব্যवस्था ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। সরেজমিনে মিটার না দেখে ঘরে বসে মনগড়া ও আনুমানিক বিদ্যুৎ বিল তৈরির অভিযোগে জেলা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শত শত গ্রাহক একত্রিত হয়ে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।



বিক্ষোভকারী গ্রাহকদের মূল অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিযুক্ত মিটার রিডাররা নিয়মিত এলাকায় যান না। মাঠপর্যায়ে গিয়ে সরজমিনে মিটার রিডিং সংগ্রহ করার কথা থাকলেও, তারা সেই নিয়ম সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় বসে অনুমাননির্ভর ও অসঙ্গতিপূর্ণ রিডিং বসিয়ে গ্রাহকদের হাতে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে প্রতি মাসেই প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি টাকার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর বিদ্যুৎ বিভাগের এমন বেপরোয়া ও দায়িত্বহীন আচরণের ফলে তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চেপে বসছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে পরিবারে মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিল আসার কথা, মিটার রিডারদের মনগড়া হিসাবের কারণে সেখানে দুই থেকে তিন হাজার টাকার ভুতুড়ে বিল পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও অনেক গ্রাহককে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর তদারকির অভাব এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করার কারণেই এই অনিয়ম দিনে দিনে বৃ‌দ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে মিটার না দেখে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাগজে বিল তৈরি করা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুতর অবহেলারই প্রমাণ দেয়। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিযোগের প্রতিকার চাইতে আসা গ্রাহকরা বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অনতিবিলম্বে এই মনগড়া বিলিং প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। মিটার রিডারদের প্রতি ঘরে গিয়ে সরাসরি রিডিং দেখে সঠিক হিসাব অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া এবং ভুল বিল তৈরি করা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি তোলা হয়। অন্যথায়, আগামীতে আরও কঠোর ও বিস্তৃত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের এ ধরনের গ্রাহক হয়রানির চিত্র নতুন নয়। তবে সিরাজগঞ্জের এই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে গ্রাহকদের ধৈর্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের সার্বিক উন্নয়ন, স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত প্রয়োগ এবং মিটার রিডিং প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ছাড়া এই দীর্ঘদিনের সংকট ও জন অসন্তোষ দূর করা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবাদের পর কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments