Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

প্রকৃতিতে আবহাওয়ার মেজাজ বদল: টানা চার দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির বার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
আবহাওয়ার রূপবদলের সংকেত দিয়ে দেশের সার্বিক জলবায়ু পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সরকারি এই পূর্বাভাস সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী চার দিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোথাও কোথাও বজ পাতসহ বৃষ্টি বা অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং জলীয় বাষ্পের প্রাচুর্যের কারণেই এই বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হচ্ছে।



আবহাওয়া পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই চার দিনের বৃষ্টিপাত কেবল কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজধানী ঢাকা সহ সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক স্থানেই কম-বেশি বৃষ্টির প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে। বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে উপকূলীয় জেলাগুলোতে সামুদ্রিক মেঘমালার প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের দেওয়া সিনপটিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লঘুগোটের বর্ধিতাংশ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্পের মিশ্রণে দেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে দেশের উত্তর ও মধ্যভাগে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে এবং এর ফলেই আগামী অন্তত ৯৬ ঘণ্টা বা চার দিন অব্যাহতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আবহ বজায় থাকবে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনুভূত হওয়া সাময়িক উষ্ণতা অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃষ্টির এই সম্ভাব্য পরিস্থিতির কারণে দেশের সার্বিক তাপমাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। দিনের বেলা সূর্যের আলো মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। তবে রাতের তাপমাত্রা বিশেষ কোনো পরিবর্তন না হলেও, বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে সাময়িক ঠাণ্ডা অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ভোরের দিকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশাও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চার দিনের বৃষ্টিপাত দেশের কৃষি খাতের জন্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশ্লেষকরা। যেসব অঞ্চলে রবি শস্য বা শীতকালীন শাকসবজি কাটার কাজ চলছে, সেখানকার কৃষকদের দ্রুত ফসল গোলায় তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে ফসলের ক্ষেতে যেন দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে অন্যদিকে, এই বৃষ্টি অনেক ধরনের উদ্যান ফসল এবং আবাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে, কারণ এটি মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

নগর জীবনে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এই অসময়ের বৃষ্টি ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বৃষ্টির ফলে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সাময়িক বিলম্ব এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। শহরের নিম্নঞ্চলগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য জরুরি কাজে বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে রাখা এবং সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরমর্শ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদী ও সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার প্রতি মুহূর্তে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বৃষ্টিপাতের সময় সাময়িকভাবে দমকা বাতাস বইতে পারে বলে নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। আবহাওয়ার এই ধারার পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতে কত দিন সময় লাগতে পারে, তা পরবর্তী বুলেটিনে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments