Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশ করছে হারপার কলিন্স, পেঙ্গুইনের আপত্তি এড়িয়ে আপসহীন কংগ্রেস নেত্রী

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা প্রকাশ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জল্পনার অবশেষে অবসান ঘটেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা ‘হারপার কলিন্স’ (HarperCollins) ভারতে বইটি প্রকাশের স্বত্ব অর্জন করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে বইটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আগ্রহের পর এই ঘোষণা ভারতীয় প্রকাশনা জগত ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পর্যালোচনার জন্ম দিয়েছে।


এর আগে বিশ্ববিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস’ সোনিয়া গান্ধীর এই আত্মজীবনী প্রকাশের দৌড়ে প্রথম সারিতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা এই প্রকল্প থেকে পিছু হটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাণ্ডুলিপির কয়েকটি বিশেষ অধ্যায়ে উল্লিখিত ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক তথ্য ও ব্যাখ্যা নিয়ে পেঙ্গুইনের সম্পাদনা পর্ষদ গম্ভীর আপত্তি জানিয়েছিল। তারা কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রীকে অনুরোধ করেছিল বিতর্কিত ওই অংশগুলো নতুন করে সম্পাদনা বা সংশোধন করার জন্য। তবে সোনিয়া গান্ধী প্রকাশকদের সেই প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অসম্মতি জানান এবং নিজের লেখায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কাটছাঁট করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নিজের দেখা ঘটনাপ্রবাহ ও অভিজ্ঞতাকে কোনো রূপ পরিবর্তন না করেই তিনি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করতে চান।

সোনিয়া গান্ধীর এই অনমনীয় অবস্থান এবং পেঙ্গুইনের সম্পাদনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরই আর্ন্তজাতিক প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স এই কাজের দায়িত্ব নেয়। কোনো রূপ পরিবর্তন বা সম্পাদনার চাপ সৃষ্টি না করে লেখকের মূল বক্তব্য ও মূল বয়ান অক্ষুণ্ন রেখেই বইটি পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদের প্রকাশকের সাথে এমন আপসহীন অবস্থানের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বোদ্ধামহল।

ইতালিতে জন্মগ্রহণকারী সোনিয়া মাওনোর ভারতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ এবং দেশের অন্যতম ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক পরিবারের বধূ থেকে জাতীয় কংগ্রেসের হাল ধরা—এই সম্পূর্ণ যাত্রাপথটি সর্বদাই রহস্য ও কৌতূহলে ঘেরা। ১৯৭০-এর দশকে রাজীব গান্ধীর সাথে বিবাহসূত্রে ভারতে আগমন থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড—প্রতিটি ঐতিহাসিক পর্বেই তাঁর জীবনে এসেছে অভাবনীয় মোড়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে চরম সংকটকালে কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং টানা প্রায় দুই দশক ধরে দলকে পরিচালনা করার পেছনে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল, তা এই আত্মজীবনীতে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করা এবং পরিবর্তে ড. মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করার নেপথ্য কাহিনী নিয়ে আজও নানা বিশ্লেষণ চলে। এছাড়া টানা দশ বছরের ইউপিএ (UPA) শাসনকালের ভেতরের রসায়ন, সোনিয়া-মনমোহন জুটি, দলীয় সিদ্ধান্তের নেপথ্য কথা এবং বর্তমান ভারতীয় রাজনীতির রূপান্তর নিয়ে বইটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্মৃতিকথা কেবল সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়, বরং এটি আধুনিক ভারতের তিন থেকে চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নিবিড় দলিল। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, সহযোগী দলগুলোর সাথে জোটের বাধ্যবাধকতা এবং বিরোধী শিবিরের মুখোমুখি দাঁড়ানোর স্মৃতিগুলো পাঠকদের নতুন এক দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।

অতীতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, নাটওয়ার সিং কিংবা সঞ্জয় বারুর লেখা রাজনৈতিক বইগুলো ভারতের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে সোনিয়া গান্ধীর নিজস্ব কলমে লেখা এই আত্মজীবনী প্রকাশের পর দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। পেঙ্গুইন যে অধ্যায়গুলোর তথ্যাদি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, সেই অধ্যায়গুলোতে ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক তথ্য রয়েছে, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সারা দেশের পাঠক ও রাজনৈতিক মহল।

হারপার কলিন্স সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বইটি পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক চাপ বা বিতর্ক এড়িয়ে একজন নেত্রীর সতস্ফূর্ত জীবনগাথা হুবহু প্রকাশের ক্ষেত্রে হারপার কলিন্সের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাহিত্য ও সাংবাদিকতা ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments