Header Ads Widget

Put AdSense Code Here

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি স্বাবলম্বী করতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব: উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্বাবলম্বী গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই দাবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট এক বিস্তারিত প্রস্তাবনাসহ স্মারকলিপি পেশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। প্রস্তাবনায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি এবং প্রশাসনিক ভবনের ছাদে আধুনিক সোলার প্যানেল বসানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।





বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্মারকলিপিতে বলা হয়—বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার একটি অপরিহার্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদ্যুৎ বিল হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। একই সঙ্গে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হলে ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি এবং শিক্ষা পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পেশ করা এই কর্মপরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বহুবিধ সুফলের কথা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের বিশালাকার ভবনগুলোর অব্যবহৃত ছাদগুলোকে সোলার পার্ক হিসেবে ব্যবহার করে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। উৎপাদিত এই সবুজ শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন বিদ্যুতের বড় একটি অংশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। এর ফলে বিদ্যুতের পেছনে ব্যবহৃত মোটা অঙ্কের বাজেট সাশ্রয় হবে, যা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গ্রীষ্মকালে লোডশেডিংয়ের কারণে হলগুলোর রিডিং রুম ও রুমে অবস্থানরত হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যাটারি ব্যাকআপ বা অন-গ্রিড ইনভার্টার সম্বলিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গেলে শিক্ষার্থীরা দিন-রাত সব সময় স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। বিশেষ করে রাতের বেলা লাইব্রেরি এবং হলগুলোর পড়াশোনার পরিবেশ বহুলাংশে উন্নত হবে।

আয়োজক ও ছাত্রনেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রথাগত পাঠদান নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্ব উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তবে তা দেশের অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি চমৎকার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর বৈশ্বিক অভিযানে এটি হবে দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের এই প্রস্তাবনাটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার, অবকাঠামোগত সংকট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষামূলক এমন গঠনমূলক রাজনীতি সময়ের বড় দাবি। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক স্বার্থ এবং মৌলিক সুবিধার কথা চিন্তা করে নীতিগত অবস্থান নেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট সমাধান পেশ করা ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সরকারি অনুদান, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর কারিগরি সহায়তা কিংবা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের (অ্যালুমনাই) সহায়তায় বিশেষ তহবিল গঠন করেও এই মেগা প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনবে।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ছাত্রদলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং একটি সময়োপযোগী প্রস্তাব হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সাথে আলোচনা করে এই প্রস্তাবনার বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই এবং পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।

ADVERTISEMENT / বিজ্ঞাপন

Post a Comment

0 Comments