Advertisement

Responsive Advertisement

স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন বলে প্রচার, পরে মিলল মাটিচাপা মরদেহ; রাজনগরে গ্রেপ্তার স্বামী

 RATVNEWS ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন বলে এলাকায় প্রচার চালিয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু পরিবারের সন্দেহ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা এবং পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য। অভিযুক্ত স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তার স্ত্রী জায়েদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমঙ্গীর হুসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জায়েদা বেগম একই উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি সোনাটেকি গ্রামের হান্নান মিয়ার মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জায়েদা বেগমের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় তারা বারবার আলমঙ্গীর হুসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

স্ত্রীর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং স্বামীর অসংলগ্ন বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হলে নিহতের স্বজনরা রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরও অবহিত করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আলমঙ্গীর হুসেনের কাছে বিদেশে যাওয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রমাণ চাইলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পরে পুলিশ আলমঙ্গীর হুসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীর মরদেহ কোথায় মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার দুপুরে করিমপুর গ্রামের একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেলাল আহমদ ও রুহুল আমীন জানান, আলমঙ্গীর হুসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচার করছিলেন যে তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু যখন তার কাছে বিদেশে যাওয়ার প্রমাণ চাওয়া হয়, তখন তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া তিনি এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

Post a Comment

0 Comments